মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশে বিরাজমান দারিদ্র দূরীকরণ করতঃ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল তাদের নির্বাচনী কর্মসূচীর মাধ্যমে। বর্তমান সরকার সে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে।
এ কথা সত্য যে, সরকার কর্তৃক ঘোষিত সকল কর্মসূচী সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদকালে বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হবে না বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারনে। তবে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই ইতিমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে। সরকার কর্তৃক স্বল্প মেয়াদী, দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত “একটি বাড়ি একটি খামার ” প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মকান্ড শুরু হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র।তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহের কোন উপায় নেই। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করা থেকে বঞ্চিত। এ সব মানুষের দুঃখ দুর্দ্দশা লাঘব করে এদের জীবনে সচ্চলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বর্তমান মহাজোট সরকার গ্রামাঞ্চলের প্রত্যেকটি দরিদ্র পরিবারকে এক একটি খামারে রূপান্তরিত করার জন্য কর্মকান্ড শুরু করে দিয়েছে । প্রত্যেকটি পরিবার হাঁস মুরগী পালন করে অথবা পতিত জমিতে চাষাবাদ করে যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে সে লক্ষ্য অর্জনে সরকার অর্থ সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যায় সুফল ভোগীরা যদি পরম অধ্যবসায় সহকারে দায়িত্ব পালন করে যায় তাহলে তাদের জীবনধারাই বদলেযাবে অচিরে।
প্রতি পরিবারের একজন ব্যক্তিকে চাকরি প্রদান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য নিরলসভাবে সরকার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশকে উরমরঃধষ বাংলাদেশে রূপান্তরিত করে বৈশ্বিক যোগাযোগের মহাসড়কে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে সরকার। এতে গ্রামাঞ্চলের যুব সম্প্রদায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
দারিদ্র দূরীকরণ তথা দেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। যে দেশের মানুষ যত শিক্ষিত সে দেশ ততই উন্নত। বৈজ্ঞানিক আবিস্কার
এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রচন্ড গতিবেগ সৃষ্টি করতে পারে
দেশের শিক্ষিত সমাজ। এ সত্য উপলব্ধি করে সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হয়েছে।
মাধ্যমিক স্কুল/মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তী প্রদান করা হচ্ছে এবং দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকল স্তরের ছাত্র/ছাত্রীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের মধ্যে সরকার কর্তৃক ঘোষিত স্বাক্ষরতা অভিযান সফল করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব পড়বে যার ফলে জনগনকে বেকারত্বের অভিশাপে জর্জ্জরিত হতে হবে না। ফলে প্রতিটি পরিবার অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে আর কোন অসুবিধার সম্মুখীন হবে না।
সরকার ইতিমধ্যেই দেশের ১৬০০ মাধ্যমিক স্কুল/মাদ্রাসাকে এম.পি.ও ভুক্ত করে নিয়েছে এবং সে সঙ্গে ২৬০০ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়কে সরকারীকরণ করে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক কর্মকান্ডের সূচনা করেছে।
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের অর্থনীতি বহুলাংশে কৃষি নির্ভর। অতএব, কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সাধন করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন এ ধারনার বশবর্তী হয়ে সরকার কৃষকদের সর্বাত্মক সাহায্য প্রদানে এগিয়ে এসেছে। উন্নতমানের এবং উচ্চফলনশীল ধানের বীজ উদ্ভাবনকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিজ্ঞানীদের আহ্বান জানানোর ফলে অতি সাম্প্রতিক কালে এ ধরনের ধানবীজ উদ্ভাবনে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা সফল হয়েছেন। সরকার অতি সুলভমূল্যে কৃষকদের বীজ ও সার সরবরাহ করে যাচ্ছে।
সরকার কৃষকদের অতি স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদানের সুব্যবস্থা করে কৃষকদেরকে মহাজনদের শোষণ থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও সরকার সমাজের দুঃস্থ নরনারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে তাদের দারিদ্র নিরসনের লক্ষ্যে। এদরেকে নিয়মিত ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা,ঠ.এ.উ. প্রকল্প ইত্যাদি প্রবর্তণ করে দেশের মানুষের দারিদ্র লাঘবে সরকার সাফল্যের পরিচয় দিতে শুরু করেছে। আশা করা যায় আগামী দিনগুলোতে সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়নে অধিকতর অবদান রাখার জন্য অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাবে।