বর্তমানে বাংলাদেশে তাপমাত্রা যে হারে বৃদ্দি পাচ্ছে তাতে দিন দিন জন দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। কেবলমাত্র মানুষ নয় পশুপক্ষী সহ দেশের প্রাণীকুলও হাঁফিয়ে উঠছে। তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে নানা ধরণের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ। এমনটাতো আগে ছিল না। বর্তমানে প্রকৃতি কেন এমন আচরণ করতে শুরু করেছে?
আসুন, আমরা সমস্যাটা একটু খতিয়ে দেখি। আমরা জানি, আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটি বায়ুমন্ডর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এ বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে একটি বায়ু স্তর রয়েছে যা ওজোন স্তর নামে অভিহিত। এ ওজোন স্তর ছাতার মতো এ গ্রহকে বহির্জাগতিক ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি প্রতিহত করে এ পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু কোন কারণে যদি ওজোন স্তরের ক্ষতি সাধিত হয় তখন কিন্তু পরিনামে জলবায়ু বিরূপ আচরণ করতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত এই যে, বর্তমানে সারা বিশ্বের জলবায়ু ক্রমে ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পরিনামে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে যা জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত হবার কারণ ওজোন স্তরের ফাটলের মধ্য দিয়ে অতি বেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানছে। ফলে বায়ুমন্ডল ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি
Green House গ্যাসের পরিমান অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে তা ওজোন স্তরে ফাটল সৃষ্টি করে ক্ষতি সাধন করে।
বর্তমান যুগে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের চাহিদা এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, তার জোগান দিতে গিয়ে বিভিন্ন দেশে অনেক অনেক শিল্প কল-কারখানা স্থাপিত হচ্ছে আর সেসব কল-কারখানায় জৈব জ্বালানী পুড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমানে Carbon dioxide নিঃসরণ হচ্ছে। তা ছাড়া যানবাহন থেকে প্রতিনিয়ত নির্গমণ হচ্ছে
Carbon monoxide এর। শহরাঞ্চলে স্তূপীকৃত আবর্জনা পচে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে Green Housegass এবং বিভিন্ন Mithane gas এর। এর ফলে আজ ওজোন স্তরের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। অবিলম্বে এ সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায়, প্রকৃতি ও প্রাণী জগতের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে অচিরে।শিল্পোন্নত দেশ সমূহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ দেশ গুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু শুধু অর্থ সাহায্যের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভবপর নয়। এর জন্য প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
যতদিন যাচ্ছে ততই জলবায়ুর অনাকাঙ্খিত পরিবর্তণ ঘটছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যেমনি ঘুর্ণিঝড়, টর্নেডো, অতিবৃষ্টি, খরা ইত্যাদি প্রকৃতি ও জনজীবনকে চরম বিপত্তির মুখে ঠেলে দিতে যাচ্ছে তেমনি উষ্ণ জলবায়ুর কারণে মেরু অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করেছে। এর ফলে সমুদ্রের জল স্তরের উচ্চতা বেড়ে চলছে। অবস্থা এমনভাবে চলতে থাকলে অতি অল্প সমযের মধ্যে সমগ্র বিশ্বের দ্বীপাঞ্চল, সমুদ্রকূলবর্তী দেশগুলোর অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যাবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ অনেকটা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। বিশেষ করে কক্সবাজারের
St. Martin দ্বীপ থেকে শুরু করে মহেশখালি, কুতুবদিয়া, সন্দীপ, ভোলা, হাতিয়া এবং উপকূলের নিকটস্থ অন্যান্য দ্বীপ সমূহ সহ উপকূলভাগের অধিকাংশ ভূমি সাগরজলে তলিয়ে যাবে- এতে কোন সন্দেহ নেই। এর ফলে সে সব অঞ্চল তথা কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত মানুষগুলো জলবায়ুজনিত উদ্বাস্তুতে পরিনত হবে। তাদের ধনসম্পদ বাড়িঘর, জায়গা জমি সব হারিয়ে তারা দেশের অভ্যন্তরভাগে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে।
এদের পূর্নবাসনের জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর ভূমির। স্বাভাবিকভাবেই কক্সবাজারের ফসলী জমি কিংবা পাহাড়ি অঞ্চল সমূহ বেদখল হযে যাবে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। দেশের অর্থনীতির উপর পড়বে বিরূপ প্রভাব।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বিরাট এলাকা হারিয়ে ফেলব আমরা যার কারণে লবণ, মৎস্য শিল্পও সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অতএব, কক্সবাজার অঞ্চলের জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। পহাড় কাটা, বনভূমি উজাড় করা বন্ধ করতে হবে। বেশী বেশী গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করতে হবে। যতটুকু সম্ভবপর পরিবেশ রক্ষায় আমাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
---০০০---
আসুন, আমরা সমস্যাটা একটু খতিয়ে দেখি। আমরা জানি, আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহটি বায়ুমন্ডর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এ বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে একটি বায়ু স্তর রয়েছে যা ওজোন স্তর নামে অভিহিত। এ ওজোন স্তর ছাতার মতো এ গ্রহকে বহির্জাগতিক ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি প্রতিহত করে এ পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। কিন্তু কোন কারণে যদি ওজোন স্তরের ক্ষতি সাধিত হয় তখন কিন্তু পরিনামে জলবায়ু বিরূপ আচরণ করতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত এই যে, বর্তমানে সারা বিশ্বের জলবায়ু ক্রমে ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পরিনামে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে যা জনজীবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুমন্ডল উত্তপ্ত হবার কারণ ওজোন স্তরের ফাটলের মধ্য দিয়ে অতি বেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আঘাত হানছে। ফলে বায়ুমন্ডল ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড, মিথেন ইত্যাদি
Green House গ্যাসের পরিমান অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে তা ওজোন স্তরে ফাটল সৃষ্টি করে ক্ষতি সাধন করে।
বর্তমান যুগে জীবন যাপনের ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের চাহিদা এমনভাবে বেড়ে গেছে যে, তার জোগান দিতে গিয়ে বিভিন্ন দেশে অনেক অনেক শিল্প কল-কারখানা স্থাপিত হচ্ছে আর সেসব কল-কারখানায় জৈব জ্বালানী পুড়ানোর ফলে প্রচুর পরিমানে Carbon dioxide নিঃসরণ হচ্ছে। তা ছাড়া যানবাহন থেকে প্রতিনিয়ত নির্গমণ হচ্ছে
Carbon monoxide এর। শহরাঞ্চলে স্তূপীকৃত আবর্জনা পচে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে Green Housegass এবং বিভিন্ন Mithane gas এর। এর ফলে আজ ওজোন স্তরের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। অবিলম্বে এ সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। অন্যথায়, প্রকৃতি ও প্রাণী জগতের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে অচিরে।শিল্পোন্নত দেশ সমূহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ দেশ গুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু শুধু অর্থ সাহায্যের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভবপর নয়। এর জন্য প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
যতদিন যাচ্ছে ততই জলবায়ুর অনাকাঙ্খিত পরিবর্তণ ঘটছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যেমনি ঘুর্ণিঝড়, টর্নেডো, অতিবৃষ্টি, খরা ইত্যাদি প্রকৃতি ও জনজীবনকে চরম বিপত্তির মুখে ঠেলে দিতে যাচ্ছে তেমনি উষ্ণ জলবায়ুর কারণে মেরু অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করেছে। এর ফলে সমুদ্রের জল স্তরের উচ্চতা বেড়ে চলছে। অবস্থা এমনভাবে চলতে থাকলে অতি অল্প সমযের মধ্যে সমগ্র বিশ্বের দ্বীপাঞ্চল, সমুদ্রকূলবর্তী দেশগুলোর অধিকাংশ নি¤œাঞ্চল সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যাবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ অনেকটা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। বিশেষ করে কক্সবাজারের
St. Martin দ্বীপ থেকে শুরু করে মহেশখালি, কুতুবদিয়া, সন্দীপ, ভোলা, হাতিয়া এবং উপকূলের নিকটস্থ অন্যান্য দ্বীপ সমূহ সহ উপকূলভাগের অধিকাংশ ভূমি সাগরজলে তলিয়ে যাবে- এতে কোন সন্দেহ নেই। এর ফলে সে সব অঞ্চল তথা কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত মানুষগুলো জলবায়ুজনিত উদ্বাস্তুতে পরিনত হবে। তাদের ধনসম্পদ বাড়িঘর, জায়গা জমি সব হারিয়ে তারা দেশের অভ্যন্তরভাগে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে।
এদের পূর্নবাসনের জন্য প্রয়োজন হবে প্রচুর ভূমির। স্বাভাবিকভাবেই কক্সবাজারের ফসলী জমি কিংবা পাহাড়ি অঞ্চল সমূহ বেদখল হযে যাবে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। দেশের অর্থনীতির উপর পড়বে বিরূপ প্রভাব।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ উপকূলীয় অঞ্চলের বিরাট এলাকা হারিয়ে ফেলব আমরা যার কারণে লবণ, মৎস্য শিল্পও সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অতএব, কক্সবাজার অঞ্চলের জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। পহাড় কাটা, বনভূমি উজাড় করা বন্ধ করতে হবে। বেশী বেশী গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহিত করতে হবে। যতটুকু সম্ভবপর পরিবেশ রক্ষায় আমাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
---০০০---




No comments:
Post a Comment